সরকারিকৃত প্রদর্শক, সহঃগ্রন্হাগারিকদের বেতনগ্রেড বৈষম্য ও অবনমন
সরকারিকৃত প্রদর্শক, সহঃগ্রন্হাগারিকদের বেতনগ্রেড বৈষম্য ও অবনমন
বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিদ্যালয় ও একটি করে কলেজ সরকারিকরণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩৫টি কলেজ এবং প্রায় ৩৩০ টির মত স্কুল সরকারিকরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান সরকারি হলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী কম খরচে উন্নত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে, শিক্ষক-কর্মচারীদের মান-সম্মান, পদমর্যাদা,আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং এমপিওভুক্ত পদ ও বেতনগ্রেড অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কমবে না ( অবনমন হবে না) । এটাই সর্বজন স্বীকৃত এবং বাস্তবসম্মত দৃষ্টান্ত।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীগণ ০৮ (আট) বছর চাকরি করার পর একটি উচ্চতর বেতনস্কেল পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে আমরা যারা প্রভাষক, প্রদর্শক সহঃগ্রন্হাগারিক বা সমপর্যায়ের পদে কর্মরত। এ পদগুলো শিক্ষক পদ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (গ্রেড-৯ম ও ১০ম)। এমপিও নীতিমালা অনুসারে একই প্রতিষ্ঠানে আট বছর চাকরি করার পর বিধি মোতাবেক আমাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চতর বেতনস্কেল পেয়ে স্কুল--কলেজ সরকারিকরণের পূর্বেই ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেল অনুসারে ২৯০০০ টাকা বেতন স্কেলে (গ্রেড-৭) এবং প্রদর্শক ও সহঃগ্রন্হাগারিক ২২০০০ (৯ম গ্রড) বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছি। কলেজ সরকারিকরণের তারিখ (০৮.০৮.২০১৮) ইনক্রিমেন্টসহ আমাদের অনেকের প্রদর্শক , সহঃগ্রন্হাগারিকদের বেতনস্কেল ছিলো ২৩১০০ টাকা যা বর্তমানে (বেসরকারি) আমরা ২৮১০০ টাকা বেতনস্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছি। কলেজ সরকারিকরণের পূর্বে আমাদের অনেকেরই বেসরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা ২৩ থেকে ২৪ বছর। কলেজ সরকারি হওয়ায় বর্তমানে আমরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবো। এ প্রত্যাশায় ছিল সকলের অন্তরে অথচ দীর্ঘ প্রক্রিয়া (৫-৬বছর) শেষে মাউশি আমাদেরকে অশিক্ষক হিসেবে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করছে এবং আমাদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে গ্রেড-১০, বেতনস্কেল ১৬০০০টাকা। আর সহঃগ্রন্হাগারিকদের বেতনগ্রেড নির্ধারণ করা হচ্ছে ১৪তম গ্রেডে, এটি হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বৈষম্য। বর্তমানে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণের বাজেট (চলতি ও বকেয়া) অর্থ মন্ত্রণালয় প্রদত্ত আমাদের নিজ নিজ পদের প্রারম্ভিক বেতন গ্রেড /বেতনস্কেল অনুসারে মাউশি'র বাজেট শাখা জমা নিচ্ছেন (বর্তমান এমপিও/ গ্রেড অনুসারে নয়)। তাহলে আমাদেরকে প্রতি মাসে বেতন বাবদ ফেরত দিতে হবে ৭০০০ -১০০০০ (সাত হাজার থেকে দশ হাজার) টাকা। ১৪তম গ্রেডে সহঃগ্রন্হাগারিকদের অবস্হা আরো নির্মম, কারণ এ পদের বেতনগ্রেড সবচেয়ে বেশী অবনমন হয়েছে । (অর্থাৎ ১০ম থেকে ১৪তম গ্রেডে) একইভাবে প্রভাষকদের মধ্যে যাঁরা উচ্চতর বেতনস্কেল পেয়ে বর্তমানে গ্রেড-৭, ২৯০০০টাকা বেতনস্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন,বর্তমান বেতনস্কেল ৩৭০৩০টাকা, তাঁরাও ৯ম গ্রেডে( ২২০০০ টাকা) আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আশার কথা হলো, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ 'জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা- ২০১৮' -এর সংশোধন/পরিমার্জন /পরিবর্তন করে "সরকারিকরণকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০২২" সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এতে শিক্ষক কর্মচারীদের পদমর্যাদা ও আর্থিক বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের দৃষ্টিতে বর্তমানে সরকারিকৃত কলেজে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারীগণ "সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮" এর কয়েকটি বিধি ও উপবিধির কারণে পদমর্যাদা ও আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
পদ অবনমন: প্রদর্শক, সহঃগ্রন্হাগারিক (সমপর্যায়ের পদ) পদগুলো শিক্ষক পদ। অথচ তাঁদেরকে অশিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে।
কার্যকর চাকরিকাল অর্ধেক গণনা করায় পেনশন ও ছুটি গণনার ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাই ২০১৮ বিধি'র বিধি ও উপবিধির ব্যাখ্যায় কয়েকটি শব্দ ও বাক্য প্রতিস্থাপন /সংযোজন এবং কর্তনের সুপারিশ করছি।
ক) বিধি ২। এর ( ৯) "সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী" অর্থ কোনো সরকারিকৃত কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক বা প্রভাষক পদে কর্মরত এমন কোনো শিক্ষক বা কোনো পদে কর্মরত এমন কোনো কর্মচারী যিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্বাচিত বেসরকারি কলেজে নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিবার তারিখের পূর্বে, বেসরকারি কলেজের জন্য প্রযোজ্য নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ, নির্দেশ বা নীতিমালার অধীন, নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়া অব্যাহতভাবে উক্ত কলেজে কর্মরত আছেন; এখানে দ্বিতীয় লাইনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের পরে সংযোজনের জন্য সুপারিশ করছি; সহকারী অধ্যাপক,প্রভাষক, প্রদর্শক, গ্রন্হাগারিক, সহঃগ্রন্হাগারিক বা সমমর্যায়ের পদে কর্মরত এমন কোনো শিক্ষক...
খ) বিধি ৫। অস্থায়ীভাবে নিয়োগ: (ক) অধ্যক্ষ,
উপাধ্যক্ষ,সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে কর্মরত প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকগণকে, যথাক্রমে অধ্যক্ষ (নন-ক্যাডার), উপাধ্যক্ষ (নন-ক্যাডার), সহকারী অধ্যাপক (নন- ক্যাডার) ও প্রভাষক (নন-ক্যাডার) হিসেবে এবং
(খ) কর্মচারীগণকে স্ব-স্ব পদে,-
এখানে সরকারী অধ্যাপক (নন-ক্যাডার) এর পরে প্রতিস্থাপন করার জন্য সুপারিশ করছি:
সরকারী অধ্যাপক (নন-ক্যাডার), প্রভাষক (নন- ক্যাডার), গ্রন্থাগারিক (নন-ক্যাডার), প্রদর্শক (নন- ক্যাডার), সহকারী গ্রন্থগারিক (নন-ক্যাডার) ও শরীরচর্চা শিক্ষক (নন-ক্যাডার) হিসেবে,
গ) ৯। বেতন- ভাতাদি নির্ধারণ: অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীগণ, সংশ্লিষ্ট কলেজ সরকারিকরণের তারিখ হইতে,বিদ্যমান জাতীয় বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে স্ব-স্ব পদের বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হইবেন। এখানে প্রতিস্থাপন করার জন্য সুপারিশ করছি: কলেজ সরকারিকরণের তারিখ হইতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীগণ এমপিও অনুসারে প্রাপ্ত বেতনস্কেলে এবং নন এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীগণ বিদ্যমান জাতীয় বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে স্ব-স্ব পদের বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হইবেন।
পদোন্নতি: সরকারিকৃত কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীগণের পদোন্নতিযোগ্য স্থানান্তরিত পদসমূহে সংশ্লিষ্ট কলেজে কর্মরত আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীগণ পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের সরকারিকরণের অব্যবহিত পূর্বের, ক্ষেত্রমত,বিষয় ও পদ ভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে,সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে,পদোন্নতি প্রদান করা যাইব।
কাজেই "সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা- ২০১৮"- এ উক্ত বিষয়গুলো সংযোজন/প্রতিস্থাপন করে "সরকারিকরণকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা- ২০২২" এর খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য কর্তৃপক্ষের সদয় সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নুরুন নাহার
প্রদর্শক,জীববিজ্ঞান
করফুলেন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ
শাহরাস্তি,চাঁদপুর।

Comments
Post a Comment