সরকারিকৃত প্রভাষকদের বেতনগ্রেড অবনমন!
সদ্যসরকারিকৃত প্রভাষকদের বেতনগ্রেড অবনমন করা হয়েছে। সর্বশেষ জারীকৃত "কলেজ শিক্ষক - কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮" এর আলোকে কলেজ গুলোকে সরকারিকরণ করতে গিয়ে প্রভাষকদের বেতন ৭ম গ্রেড থেকে নামিয়ে ৯ম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে কলেজের গ্রন্হাগারিক ও সহকারী গ্রন্হাগারিকদের বেতন গ্রেডেও অবনমন করা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে এবং উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশকে পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে স্কুল সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর সদর উপজেলাধীন জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজটি "২০১৮ কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা" এর আলোকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সনে সরকারিকরণের আদেশ ( জিও) জারী করা হয় এবং চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালের ১৪ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রালয় কর্তৃক ৪২জন শিক্ষক- কর্মচারীকে সরকারি ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগ পত্রে সহকারী অধ্যাপকগনের বেতনগ্রেড ঠিক থাকলেও প্রভাষকগনের বেতন ৭ম গ্রেড থেকে নামিয়ে ৯ম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবং একই ভাবে গ্রন্হাগারিক ও সহকারি গ্রন্হাগারিকদের বেতনগ্রেডও নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কলেজ শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং চরম হতাশার মধ্যে তাঁরা জীবনযাপন করছেন।
ভূক্তভুগী কয়েকজন শিক্ষক প্রতিবেদককে জানান, আমরা ১৯৯৮ সালে এ প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসাবে বেসরকারি ভাবে নিয়োগ পেয়েছি এবং ৮ বছরে একটি টাইম স্কেলও পেয়েছি,যা বর্তমানে আমাদের বেতনগ্রেড ৭ম এবং সিনিয়র প্রভাষক হিসাবে পদোন্নতি পাওয়ার পর্যায়ে ছিলাম। আমাদের চাকরীর বয়স ২৩/২৪ বছর চলমান। কিন্ত চাকরী জীবনের শেষদিকে এসে পদ এবং গ্রেড উভয় কমে যাওয়ার কারণে বিষয়টিকে আমরা কিছুতেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছিনা।আমাদের প্রাপ্য বেতনগ্রেড থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষকরা আরো জানান, আইবাস প্লাস প্লাস থেকে অনলাইন আবেদনে আটোমেটিক ভাবে ফেক্সিশান করা হলেও উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিস তা মানতে রাজিনা, তাঁদের মতে ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ২২০০০ স্কেল থেকেই বেতন শুরু হবে। তাহলে বেসরকারি আমলের বেতন থেকে সরকারি বেতন অনেক কম হবে বলেও জানিয়েছেন ভূক্তভুগী শিক্ষকরা।
অতি দ্রুত এ সমস্যার স্হায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিব মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষকরা।
Comments
Post a Comment